আছ্ ছালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্ অত্যান্ত উল্লেখযোগ্য একটি প্রশ্ন, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করার জন্য। কথা হলো ভাই কোরআনের প্রত্যেকটি আয়াতই অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় মানবজাতির হেদায়েতের জন্য একটি বাক্য অথবা আয়াতই যথেষ্ট হতে পারে, যদি হৃদয় দিয়ে অনুভব ও গবেষণা করতে পারেন।

একজন মানুষকে জাগিয়ে দেয়ার জন্য, আত্ববিশ্বাস ফিরেয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এককথায় মানুষকে বদলে দিতে পারে।

১. জীবন মানেই পরীক্ষা

হতাশার অন্ধাকারে ডুবে থাকা মানুষের মনে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খায়, কেনো আমাদের সৃষ্টি করা হলো? কেনো পৃথিবীতে এলাম? আমরা কি প্রকৃতির খেলার পুতুল? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ বলেন,

"যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করিবার জন্য-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল,

اۨلَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ؕ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُۙ

সূরাঃ মুলক, নম্বরঃ ৬৭, আয়াত নম্বরঃ ২

এ আয়াত বলছেন, আমাদের এমনি এমনি দুনিয়ায় পাঠানো হয়নি। আমাদের পাঠানোর কারণ হলো, আমরা কত সুন্দরভাবে আমাদের কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারি তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। আমরা যে কাজই করি না, তা অবশ্যই সবচেয়ে সুন্দর উপায়ে, আল্লাহর বলে দেওয়া নিয়মে সমাপ্ত করতে পারলে পরীক্ষায় পাশ করব এবং পুরস্কার হিসেবে অকল্পনীয় সুন্দর জান্নাত আল্লাহ আমাদের দেবেন।

২. মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে কষ্ট ও পরিশ্রম নির্ভর করে

অনেক সময়ই মনে প্রশ্ন জাগে, কেনো আমাদের কষ্ট করে বাঁচতে হয়? জীবন মানেই সংগ্রাম কেনো? এ প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

" নিশ্চয়ই আমি মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছি।

لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ فِىْ كَبَدٍؕ

সূরাঃ বালাদ, নম্বরঃ ৯০, আয়াত নম্বরঃ ৪

এ আয়াতের সহজ অর্থ হলো, জীবন মানেই কষ্ট এবং সংগ্রাম। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে তাকে পরিশ্রম করে, কষ্ট করেই বেঁচে থাকতে হবে। আমরা যে নিত্য খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ-ফুর্তি করি তা কি কম কষ্টের? যদিও আনন্দে ডুবে থাকার কারণে আমরা কষ্ট অনুভব করি না। আপনার কষ্ট সেদিনই শেষ হবে, যেদিন জীবন ঘড়িটা পুরোপুরি থেমে যাবে।

৩. দুঃখের সাথেই সুখ আছে

কখনো কখনো আমাদের মনে হয়, কেনো আল্লাহ মানুষকে কষ্টনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন? কষ্ট না থাকলে জীবনটা কত সুন্দর হতো। এমন ভাবনা যে ভুল তা বলা হয়েছে এই দুই আয়াতে-

"কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে, অবশ্য কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে।

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا - إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

সূরাঃ ইনশিরাহ, নম্বরঃ ৯৪, আয়াত নম্বরঃ ৫-৬

৪. বিশ্বাসীরাই সফল

দুনিয়ার এত মত- এত পথের মাঝে সফল হওয়ার একমাত্র সূত্র কী- এ প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ বলেন,

"অবশ্যই সফলকাম হইয়াছে মু'মিনগণ, (যারা প্রকৃত বিশ্বাসী)

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَۙ

সূরাঃ ম'মিনূন, নম্বরঃ ২৩, আয়াত নম্বরঃ ১

সংক্ষেপে এই আয়াতের মর্মার্থ হলো, যারা আল্লাহ এবং পরকালের জীবনে বিশ্বাস করে, তারাই প্রকৃত সফল মানুষ। বিশ্বাসহীন কোনো পথ-মত মানুষকে সফল করতে পারে না। একইভাবে অর্থ-বিত্ত, বিদ্যা-বুদ্ধি এগুলোও সফলতার মানদন্ড নয়। সফলতার মানদন্ড একটিই, তা হলো বিশ্বাসী হয়ে জীবনযাপন করা।

৫. ভরসা করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট

কষ্ট নির্ভর করে সৃষ্টি করেই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ছেড়ে দেননি। যখন মানুষ হতাশার চক্র ভেঙে বেরোতে পারবে না, আশার আলো দেখবে না, পাশে কাউকে পাবে না, তখন আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে টেনে তুলবেন। আল্লাহ বলেন,

"এবং তাহাকে তাহার ধারণাতীত উৎস হইতে দান করিবেন রিযিক। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র উপর নির্ভর করে তাহার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আল্লাহ্ তাঁহার ইচ্ছা পূরণ করিবেনই ; আল্লাহ্ সমস্ত কিছুর জন্য স্থির করিয়াছেন নির্দিষ্ট মাত্রা।

وَّيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ‌ ؕ وَمَنْ يَّتَوَكَّلْ عَلَى اللّٰهِ فَهُوَ حَسْبُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمْرِهٖ‌ ؕ قَدْ جَعَلَ اللّٰهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا

সূরাঃ আত্ব-ত্বালাক, নম্বরঃ ৬৫, আয়াত নম্বরঃ ৩

ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত